তানজানিয়ায় নিরঙ্কুশ জয় পেলেন সামিয়া সুলুহু হাসান

0
41

তানজানিয়ায় নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সামিয়া সুলুহু হাসান। শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী প্রার্থীদের হয় জেলে পাঠানো হয় অথবা তাদের প্রার্থীতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে দেশটিতে সহিংস বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, সামিয়া প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, শনিবার তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান বিরোধী দল চাদেমা জানিয়েছে, বুধবার নির্বাচনের দিন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে সামিয়া কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি।

নিহতের সংখ্যা: চাদেমার একজন মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো পরীক্ষা করে সংগৃহীত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ‘প্রায় ৭০০’ মানুষ নিহত হয়েছেন। দারুস সালামের নিরাপত্তা সূত্র ও কূটনীতিক উভয়ই এএফপিকে জানিয়েছেন, শুক্রবার বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ‘শত শত’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সামিয়ার সরকার ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ থাবিত কম্বো শুক্রবার আল জাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার সরকারের কাছে কোনো মৃত ব্যক্তির ‘পরিসংখ্যান নেই’ এবং ‘বর্তমানে, কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি’।

দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন ও কারফিউ জারি করা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদ ওয়েবসাইট বুধবার ভোর থেকে আপডেট করা হয়নি। সাংবাদিকদের দেশে অবাধে কাজ করার অনুমতিও নেই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভোটের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বকে অপহরণের কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, তানজানিয়ায় বিক্ষোভের সময় হতাহতের খবরসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

কর্তৃপক্ষ চাদেমাকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে এবং তার নেতাকে রাষ্ট্রদ্রোহের জন্য বিচারের মুখোমুখি করে। অন্যদিকে, সেনাপ্রধান জ্যাকব মাকুন্ডা বৃহস্পতিবার জোরালোভাবে সামিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের ‘অপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন। সামিয়ার ছেলে আব্দুল হালিম হাফিদ আমির-এর ওপর জনসাধারণের ক্ষোভের ইঙ্গিত দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যার বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের তত্ত্বাবধানের অভিযোগ রয়েছে।