সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি

0
54

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে আয়োজন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সুচিন্তিত পরামর্শ চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারে না, বিশেষ করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে, তাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

রোববার (নভেম্বর ১৬) নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে সিইসি এই আহ্বান জানান।

কাজের চাপের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে সিইসি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা এত কাজের চাপের মধ্যে পড়ে গেছি… যার জন্য আমরা রাউন্ড ক্লক উই আর বিজি।”

তবে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনকে অনেকগুলো বড় ও চ্যালেঞ্জিং কাজে হাত দিতে হয়েছে এবং নির্বাচনী সংস্কার কমিশন (ইলেক্টোরাল রিফর্মস কমিশন) ইতোমধ্যেই ৮০টির বেশি সংলাপ করে তাদের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও সংস্কার কমিশনের কিছু বিষয় স্ব-উদ্যোগে বাস্তবায়নের ঘোষণা ছিল।

সিইসি কমিশনের বিগত দিনের কাজ ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ ছিল, যেখানে প্রায় ৭৭ হাজার লোক মাঠে কাজ করেছে। এই অভিযানে:

প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৪০ লাখেরও অধিক ‘লেফট আউট ভোটার’ (যারা ভোটের যোগ্য কিন্তু তালিকায় নাম ছিল না) শনাক্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন উদ্যোগ ও ইনিশিয়েটিভ এর বিষয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ডায়াসপোরাদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত জটিল ও নতুন উদ্যোগ। এছাড়া আরও যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে:

  • নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ লোক (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার) যাতে নিজেরা ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা।

  • দেশের বাইরে পোস্টেড সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটদানের ব্যবস্থা।

  • কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ।

নির্বাচন আচরণ বিধিমালার গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, আচরণ বিধিমালা তৈরির পর তা দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত নিয়ে এতে সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের উপরেই একটি সুন্দর নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মনোযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালাটি পড়ে দেখতে এবং তাদের দলের কর্মীদের কাছে প্রচারের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন তিনি।