চট্টগ্রাম মহানগরের জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদিন এবং লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
“পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন লামা থানায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করেন।”
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন এবি ওয়াহিদ, মিজবাহ উদ্দিন মিন্টু, মো. মহিউদ্দিন, শওকত ওসমান, খায়ের উদ্দিন মাস্টার, মুজিবুল হক চৌধুরী, মিজান, জলিল, আলম মেম্বার ও জহির।
লামা থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রোববার (১৬ নভেম্বর) ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ইটভাটার মালিকপক্ষের লোকজন রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বাধা দেয়। দেশীয় শ্রমিকেরা কাফনের কাপড় পরে প্রশাসনের গাড়িবহরের সামনে শুয়ে বাধা প্রদান করে, যার ফলে অভিযানে ত্রুটি ঘটে।
তদন্তে জানা গেছে, ফাইতংয়ে অনুমোদন ছাড়া প্রায় ৩১টি ইটভাটা চলছে এবং চলতি মৌসুমে ২৫টির বেশি কার্যক্রম শুরু করেছে, যাদের মধ্যে পাঁচ-ছয়টিতে ইতিমধ্যে চুলায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ইটভাটা মালিকেরা পাহাড় কাটার মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করছেন বলে অভিযোগ এসেছে।
ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এনসিপি নেতা এরফানুল হকের নেতৃত্বে ইটভাটা মালিকদের লোকজন বিভিন্নভাবে অভিযানে বাধা সৃষ্টি করে।” বাধার কারণে তারা অভিযান বন্ধ করে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ভিত্তিহীন বাধা প্রদানে যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা স্থানীয় বাসিন্দা নন এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।