ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলবে কুরাসাও!

0
38

ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। দেড় লাখ জনসংখ্যার এই ছোট দেশটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে আইসল্যান্ডকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করলো। কুরাসাওয়ের আয়তন যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ অঞ্চল ‘আইল অব ম্যানের’ চেয়েও ছোট।

তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছে কিংস্টনে স্টিভ ম্যাকক্লেরেন-এর জ্যামাইকা দলের সঙ্গে ড্র করার পর।

কিংস্টনে ম্যাচটি জিততে পারলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেত জ্যামাইকা। কিন্তু কুরাসাওয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর ইনজুরি টাইমে পাওয়া একটি পেনাল্টি ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। এই ঘটনার পরই জ্যামাইকা দলের প্রধান কোচ স্টিভ ম্যাকক্লেরেন দলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট ব্যক্তিগত কারণে মাঠে উপস্থিত না থাকলেও, ৭৮ বছর বয়সে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হয়ে টুর্নামেন্টে থাকবেন। এর আগে ২০১০ সালে গ্রিসের দায়িত্বে থাকা অটো রেহাগেল ৭১ বছর বয়সে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন।

অ্যাডভোকাট এর আগে নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম, রাশিয়া, সার্বিয়া ও ইরাকের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুরাসাওয়ের দায়িত্ব নেন তিনি। অর্থবিতর্ক মেটার পরই তিনি দলটির লক্ষ্য স্থির করেন ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার।

২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই কুরাসাওয়ের ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা শুরু। এক দশক আগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫০তম থাকা দলটি এখন ৮২তম স্থানে উঠে এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলীয় সম্প্রসারিত ফরম্যাট তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তারা কেপ ভার্দে, উজবেকিস্তান এবং জর্ডানের সঙ্গে বিশ্বকাপের নতুন মুখ হিসেবে যোগ দেবে।

হাডার্সফিল্ড, রেঞ্জার্স এবং বার্মিংহামের সাবেক খেলোয়াড় জুনিনহো বাকুনা বলেন, “এটা পাগলামি। কয়েক বছর আগেও যা কল্পনা করা যেত না, সে স্বপ্ন আজ সত্যি।”

বাছাইপর্বে কুরাসাও ১০ ম্যাচে সাতটিতে জিতে অপরাজিত থেকে শেষ করে। তবে শেষ ম্যাচে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আইজ্যাক হেইডেনের ফাউলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি, কিন্তু ভিএআর-এর পরামর্শে সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়, আর সেখানেই ইতিহাস রচনা হয়।

কনকাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাওয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে উঠেছে হাইতি ও পানামা। নিকারাগুয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে হাইতি।

কুরাসাও দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক যোগসূত্রের কারণে তারা কুরাসাওয়ের হয়ে খেলছেন। দলে আছেন তাহিথ চং, সন্টজে হ্যানসেন, আর’জানি মার্থা ও জশুয়া ব্রেনেটের মতো ইউরোপভিত্তিক ফুটবলাররা।

জুনিনহো বাকুনা বলেন, “অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলার পরও আমি কুরাসাও বেছে নিয়েছি পরিবার ও বাস্তবতার কারণে। আমার বয়সী অনেক খেলোয়াড় ডাচ দলে সুযোগ পেলেও আমি পাইনি। তাই ভাইয়ের সঙ্গে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিই।” তিনি বিশ্বাস করেন, কুরাসাওয়ের যোগ্যতা অর্জন আরও ডাচ-বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলারকে তাদের দলে টানবে এবং দলকে আরও শক্তিশালী করবে।