সরকারি সফরে আজ ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে

0
39

সরকারি সফরে আজ (শনিবার) বাংলাদেশে আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ভুটান প্রধানমন্ত্রীর এ সফরসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন। তার সঙ্গে ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও থাকবেন। এতে ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী, শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।

শনিবার সকালে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর শেরিং টোবগে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া এবং শিল্পসহ বহু ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রসচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ভুটানের কাছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ে বেশ কিছু সহযোগিতা প্রস্তাব তুলে ধরতে পারে। এছাড়া ভুটানে বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতে পেশাদার নিয়োগের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে। আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ইস্যুতেও আলোচনা হবে।

বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ, ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন।

২৩ নভেম্বর শেরিং টোবগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং ব্যবসায়ী নেতারাও তার সঙ্গে আলাদা বৈঠকে মিলিত হতে পারেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ভুটানের সঙ্গেই সম্পাদন হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এবারের সফর সেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২৪ নভেম্বর সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় সফর শেষ করে থিম্পুর উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করবেন। তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।