গুম–নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়বেন জেড আই খান পান্না

0
58

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামিদের পক্ষেও স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার পর গুমের দুই মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানি শেষে টিএফআই সেলে গুমের মামলায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। অপর মামলায় ১৩ আসামির শুনানি হবে ৭ নভেম্বর।

তারিখ নির্ধারণের আগে শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আবেদন করেন জেড আই খান পান্না। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে নিয়োগ দেয়। এছাড়া এম হাসান ইমামকেও স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় গ্রেপ্তার ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

গত ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

টিএফআই সেলে গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। এর মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে।

আর জেআইসি বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অপর মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায়ও শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক। মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।