মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টকে রাঙিয়ে রাখল বাংলাদেশ। মিরপুরে আজ পঞ্চম দিনের লাঞ্চের পরই এসে ধরা দিল জয়। সিলেটের মতো ঢাকাতেও অনায়াসে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল ২১৭ রানের বড় জয়ে জিতল সিরিজও। নিশ্চিত করল ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই।
আজ রবিবার দিনের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন প্রথম সেশনেই ম্যাচ শেষ হবে। ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিনে খেলতে নামা আয়ারল্যান্ডকে অলআউট করতে হবে মাত্র চারটি উইকেট। কিন্তু সেই ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে দেড় সেশনজুড়ে লড়াই করল তাদের টেল এন্ডাররা। বিশেষ করে কার্টিস ক্যাম্ফার খেলেছেন আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের সেরা প্রতিরক্ষামূলক ইনিংসগুলোর একটি, ২৫৯ বল খেলে অপরাজিত ৭১। চতুর্থ ইনিংসে মিরপুরে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড এখন তার।
বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রেখে একের পর এক ওভার পার করেছেন ক্যাম্ফার ও তার সঙ্গীরা। ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে তার ২০৫ বলে ২৬ রানের জুটি যেমন চাপ বাড়িয়েছে, তেমনি জর্ডান নিলের ৩০ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসও বেশিক্ষণ শান্ত থাকতে দেয়নি টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজই ভাঙেন নিলের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ আসে ক্যাম্ফার–গ্যাভিন হোয়ে জুটিতে। ১৯১ বলের স্থায়িত্বে ৫৪ রান তুলেও তারা বাংলাদেশের উদ্বেগ কাটাতে পারেনি। পিচে সোজা আসা বল হোয়ের ইনিংসের ইতি, হাসান মুরাদের নিখুঁত ডেলিভারিতে তিনি ৩৭ রানে এলবিডব্লিউ হন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি রিভিউও।
পরের বলেই মুরাদের সোজা ডেলিভারিতে বোল্ড হন হামফ্রিজ। টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে মুশফিকের শততম টেস্টে জয় সিলগালা করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
আইরিশদের ইনিংস থামে ১১৩.৩ ওভারে ২৯১ রানে। মিরপুরের চতুর্থ ইনিংসে কোনো সফরকারী দলের সবচেয়ে বেশি রান এবং সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাট করার নতুন রেকর্ড। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ২০১৭ সালে করেছিল ২৪৪, আর জিম্বাবুয়ে খেলেছিল ৮৩.১ ওভার।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাকব্রাইনকে আউট করে তাইজুল ছুঁয়েছেন বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে দ্রুত ২৫০ উইকেটের বিশ্ব রেকর্ড, রাঙ্গনা হেরাথের সঙ্গে যৌথভাবে।
ম্যাচ শেষে সব আলো তবে মুশফিকুর রহিমকে ঘিরে। তার শততম টেস্টে দল পেয়েছে বড় জয়, সিরিজ পেয়েছে ধবলধোলাই, আর তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা।