হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৫৫, এখনও নিখোঁজ ২৭৯

0
22

হংকংয়ের তাই পো ডিস্ট্রিক্টের একটি সরকারি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে লাগা ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই অগ্নিকাণ্ডের পর এখনও ২৭৯ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। এছাড়া ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বলে চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান সিসিটিভি জানিয়েছে।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একটি নির্মাণ কোম্পানির তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পরিচালক এবং একজন ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট। তাদের বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এমন উপকরণ, যেমন বাঁশ এবং পলিস্টাইরিন ফোম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

তাই পো ডিস্ট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট নামে এই আবাসিক কমপ্লেক্সে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে আগুন লাগে। আটটি ৩১ তলা টাওয়ার ব্লক নিয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সটি ১৯৮৩ সালে নির্মিত এবং ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানে প্রায় ৪,৬০০ মানুষের জন্য ১,৯৮৪টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন আটশোরও বেশি দমকল কর্মী কাজ করছেন।

টাওয়ার ব্লকগুলোতে সংস্কার কাজ চলছিল এবং ভবনগুলো বাইরে থেকে বাঁশের আচ্ছাদন দিয়ে ঢাকা ছিল। বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, বাঁশের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হংকং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এই আগুনকে তীব্রতার দিক থেকে লেভেল ফাইভ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা গত ১৭ বছরে হংকংয়ে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

আগুন নেভানোর সময় ৩৭ বছর বয়সী একজন দমকল কর্মী মারা গেছেন। সরকার তাকে ‘নিবেদিত প্রাণ এবং সাহসী’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

যদিও আগুন লাগার কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে, তবে পুলিশ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের স্থানে পলিস্টাইরিন বোর্ড পাওয়া গেছে। এসব বোর্ড সাইটের জানালা বন্ধ করে রেখেছিল, যা সম্ভবত আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।

পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, “আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, যারা কোম্পানির দায়িত্বে ছিলেন তাদের বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে। যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাঁশের পাতলা চাটাই ধরনের আচ্ছাদনের কারণে আগুন দ্রুত পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

নিরাপত্তা সচিব ক্রিস ট্যাং বলেছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ‘অস্বাভাবিক’ ছিল। যদি ব্যবহৃত উপকরণ এবং বাঁশের মাচা যথাযথ হতো, তাহলে আগুন দ্রুত ভবনগুলোতে ছড়াতো না।

আগুন লাগার পর শত শত বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হংকংয়ের গৃহায়ন মিনিস্টার উইনি হো ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন: হাউজিং টাস্কফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে হংকং আইল্যান্ড, কাউলুন এবং নতুন এলাকাগুলোতে ১,৪০০ ইউনিট চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮০টি তাইপোতেই অবস্থিত।

ইতিমধ্যেই শান লিউতে একটি ট্রানজিশনাল হাউজিং প্রজেক্টে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অগ্নি নির্বাপন কার্যক্রমের সময় যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় হংকং শিক্ষা ব্যুরো আজ ১৩টি স্কুলে ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। ভবনের অগ্নি প্রতিরোধক সুরক্ষার মান খতিয়ে দেখার জন্য পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।