কোনো ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না: তারেক রহমান

0
58

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর পাশে বিএনপি থাকবে এবং কোনো ষড়যন্ত্র করে দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। গণতান্ত্রিক যাত্রা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বহু বছর দেশ, স্বজন ও মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে হলেও তিনি দূর থেকেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, স্বজনহারা মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে। কতটা পেরেছে বা পারেনি—তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। ভবিষ্যতেও এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই গুমের শিকার হয়েছেন—যাদের কয়েকটি পরিবার সভায় উপস্থিত ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষের বেশি “মিথ্যা মামলা” দেওয়া হয়েছে এবং এসব মামলার চাপ লাখো নেতাকর্মীকে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া করে রেখেছে। তিনি দাবি করেন, এসব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপি “কৌশলের নামে” কোনো গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি; বরং রাজপথে থেকেই আন্দোলন করেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা বিএনপি চালিয়ে যাবে। তিনি আরও আশ্বাস দেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব শহীদ পরিবারের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন কৌশলে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাইছে—তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি “সমতা” নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, বিএনপির ভদ্রতা দুর্বলতা নয়; গণতন্ত্রের পথে বাধা ও ষড়যন্ত্র যারা করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না।

সভায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা অংশ নেন। তারা আবেগঘন বক্তব্যে জানান, বাসা, অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের প্রিয়জনদের তুলে নেওয়া হয়েছে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই শেষ পরিণতি সম্পর্কে তারা এখনও নিশ্চিত নন। উপস্থিত স্বজনরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।