নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন সেবা ডেস্কে কর্মবিরতির নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। শ্রমিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালের উদ্দেশ্যে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
এদিকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের সমর্থনে বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের ঘোষণা দিলেও পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মসূচিটি স্থগিত করেছে। স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খান জানান, মিছিলের প্রস্তুতি থাকলেও গতরাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিল-মিটিং না করার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি বলেন, পুলিশ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করায় আজ কোনো কর্মসূচি না করতে বলা হয়েছে, তাই আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) একাত্মতা প্রকাশ করেছে। জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরকার এক বিবৃতিতে শ্রমিক-কর্মচারীসহ জনতার দাবি মেনে ‘দেশবিরোধী চুক্তির’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধের দাবিও তোলেন তারা।
এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এনসিটি আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রোববার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধের ডাক দেয়। তবে সকাল ৮টা থেকে কর্মসূচি শুরু হলেও বন্দর ভবনে সীমিত পরিসরে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু আছে। অনেক কর্মচারী অফিসে উপস্থিত থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানা গেছে।
বন্দরের কর্মচারী ও বন্দর এলাকায় কর্মরত বেসরকারি শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। টার্মিনালগুলোর যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তিনি বলেন, হয়রানি বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার কর্মবিরতির পর বন্দর কর্তৃপক্ষ চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করেছে এবং বন্দর অচলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে শনিবার মধ্যরাতে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, পথসভাসহ যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।