মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-এর পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান এলে আবার উৎপাদন শুরু করা যাবে।
মঙ্গলবার শোধনাগারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাতে থাকা শেষ অবশিষ্ট তেল ব্যবহার করেই এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইআরএল সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইন ও ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা ডেডস্টক থেকে তেল তুলে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। সাধারণত এসব ডেডস্টকে ময়লা ও বর্জ্য জমে থাকে, যা যন্ত্রপাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একপর্যায়ে ডেডস্টক ব্যবহার সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় শোধন কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ফলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে আসার কথা থাকা একাধিক ক্রুড তেলের চালান বাতিল হয়। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে অপরিশোধিত তেলের চালান এসেছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরামকো থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেলের একটি চালানের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এ জন্য ইতোমধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে জাহাজীকরণের পর চালানটি আরব সাগর হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও জরুরি ভিত্তিতে ক্রুড তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
যদিও ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ, তবুও দেশে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সরকার বেশি দামে হলেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মার্চ ও এপ্রিলে ডিজেল, অকটেন ও ফার্নেস তেলের একাধিক জাহাজ পৌঁছেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমেও ডিজেল আমদানি হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “ইআরএলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি হবে না। পর্যাপ্ত পরিশোধিত তেল মজুত আছে এবং নতুন ক্রুড চালান এলে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।”