প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পর পুনরায় শুরু হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো বৃত্তির মতো ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে এবং জ্ঞানার্জনে উৎসাহিত করা।
বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিদ্যমান নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ানো এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে, তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা পড়াশোনায় আরও বেশি আগ্রহী হয়। উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতে কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন এবং কেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত সব জায়গা থেকে ইতিবাচক রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অভিভাবকদের বিভিন্ন চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব দাবি পূরণের চেষ্টা করবে।
শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার হার ৯৬ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রথাগত প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।