৪ বছর কোমায় থাকার পর চিরবিদায় নিলেন থাই রাজকন্যা

0
1
৪ বছর কোমায় থাকার পর চিরবিদায় নিলেন থাই রাজকন্যা

বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৪ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেছেন থাইল্যান্ডের রাজকন্যা বজ্রকিতিয়াভা নারেন্দিরা দিব্যবতী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

রাজকুমারী দিব্যবতী থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা মহা বাজিরালংকর্ণের প্রথম সন্তান। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মেছিলেন তিনি। দিব্যবতীর মা রাজকুমারী সোম সাওয়ালি ছিলেন থাইল্যান্ডের তৎকালীন যুবরাজ মহা বাজিরালংকর্ণের প্রথম স্ত্রী।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নাখোন রাতচাসিমায় সফরে গিয়েছিলেন রাজকুমারী দিব্যবতী। সেখানে গিয়ে একদিন হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হৃৎযন্ত্রে সমস্যার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দিব্যবতী। দ্রুত তাকে রাজধানী ব্যাংককে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজকুমারী দিব্যবতী পেটের ভেতরের সংক্রমণ, কোলাইটিস (কোলন বা মলাশয়ে সংক্রমণ), নিম্ন রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব শারীরিক সমস্যাই তার মৃত্যুর কারণ।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, কোলাইটিস, নিম্ন রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন এবং রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

রাজা বাজিরালংকর্ণের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন রাজকুমারী দিব্যবতী। সরকারি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, নারী কয়েদিদের ন্যায্য অধিকার প্রদান ও জীবনের মান উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য থাইল্যান্ডের মানুষের স্মৃতিতে বহুদিন বেঁচে থাকবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়া দিব্যবতী দেশে ফিরে আইন পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

তারপর ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়া— তিন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বপালন শেষে দেশে ফিরে ফের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে যোগ দেন তিনি।

এ সময় কারাগারের নারী কয়েদীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি দাতব্য তহবিল গঠন করেন তিনি। এই তহবিল থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী কয়েদিদের সহায়তা প্রদান করা হতো।

২০১৭ সালে জাতিসংঘের অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কমিশন রাজকুমারী দিব্যবতীকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তারপর ২০২১ সালে তাকে থাইল্যান্ডের রাজকীয় নিরাপত্তা কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা বাজিরালংকর্ণ। এ সময় তার পদবী ছিল জেনারেল।

রাজা বাজিরালঙকর্ণ মোট চারবার বিয়ে করেছেন, চার স্ত্রীর ঘরে মোট ৭ সন্তান আছে তার। এই সন্তানদের মধ্যে ৩ জনকে রাজকীয় পদবী ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। দিব্যবতী ছিলেন এই তিন জনের একজন। যদি দিব্যবতী বেঁচে থাকতেন, তাহলে রাজার মৃত্যুর পর সিংহাসনের প্রথম দাবিদার হতেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here