২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবস রবিবারে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন সূচক, লেনদেন এবং অধিকাংশ শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। যা বাজেট পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টির। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৫৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪১টির, কমেছে ৭১টির এবং ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৪৩ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শেয়াবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ; বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি; বাজারের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা; বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ; দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড বাজার সম্প্রসারণ; করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রীন বন্ড ও সুকুকের উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান; যোগ্য ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি সহজতর করতে লিস্টিং প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও সরলীকরণ; তথ্য প্রকাশ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা; করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর কাঠামো তৈরির উদ্যোগসগ শক্তিশালী শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতনির্ভর বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
এসব উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।