চর দখল নিয়ে টেঁটা যুদ্ধ, আহত অন্তত ৪০

0
3
চর দখল নিয়ে টেঁটা যুদ্ধ, আহত অন্তত ৪০

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রাম এবং পাশের মেঘনা উপজেলার বিনতপুর ও আলীরচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চর দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ টেঁটা যুদ্ধ হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আদালতের রায় এবং জেলা প্রশাসনের লিজ থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ পক্ষ নৌকায় করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়।

সংঘর্ষে নতুন ভাটেরারচর গ্রামের আশর আলীর দোকানসহ অন্তত ৬টি ঘর ভাঙচুর হয়। ভাঙচুর হওয়া ঘরগুলোর মধ্যে শাহ আলম মেম্বার, আলী আহম্মেদ, শফিক মিয়া, নুর মোহাম্মদ ও গরীব হোসেনের ঘরও রয়েছে।

আহতদের মধ্যে তিতাস উপজেলার সুলতানা মিয়া (৫৫), নাছির উদ্দিন (৫২), মো. কবির মিয়া (৪৫) সহ আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মেঘনা উপজেলার বিনতপুর ও আলীরচর গ্রামের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে ওই চরের একাংশ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। পরবর্তীতে নতুন ভাটেরারচর গ্রামের পক্ষে রায় আসে এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে চাষাবাদ করে আসছে। তবে হঠাৎ করেই আজ সকালে বিনতপুর ও আলীরচর এলাকা থেকে সেলেম ও ছেনুর নেতৃত্বে নৌকাযোগে লোকজন এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পরপরই তিতাস ও মেঘনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই থানার যৌথ উদ্যোগে সংঘর্ষ থেমে যায় এবং এলাকা স্বাভাবিক করা হয়।

তিতাস থানার এসআই মাহমুদুল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে মেঘনা থানা পুলিশও যোগ দেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মেঘনা থানার এসআই আক্তারুজ্জামান বলেন, যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর লতিফ জানান, প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সকলেই ইটের আঘাতে আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ এই চরের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও আজকের সংঘর্ষে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here