যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে নেতানিয়াহু এগোচ্ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সেই কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে চান।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, ‘এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য ভালো নয়। রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কেউই এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।’
ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে, যা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধ করবে।
বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলাকালে বৈরুতে হামলা না চালানোর জন্য ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের মতের মিল রয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে নেই। আমার দায়িত্ব ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার শর্তে ইসরায়েল বাধ্য নয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান বজায় থাকবে এবং প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতাও থাকবে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরান যদি আবার পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে ইসরায়েল একাই পদক্ষেপ নেবে।