গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বিদ্যুৎকান্তি রায় (৫৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (২১ জুন) ভোরে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের দাড়িয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনার একটি কামরাঙ্গা গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বিদ্যুৎকান্তি রায় উপজেলার ৩০ নম্বর পাটগাতি মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং দাড়িয়ারকুল গ্রামের মৃত গঙ্গাপ্রসাদ রায়ের ছেলে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎকান্তি রায় বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছে গলায় ফাঁস দেন। সকাল ৬টার দিকে তাঁর এক আত্মীয় গাছে মরদেহ ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা টুঙ্গিপাড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসলিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎকান্তি রায় বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয় উৎস থেকে বেশ কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের কিস্তি ও চাপের কারণে তিনি কিছুদিন ধরে চরম মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নিজ গ্রামেই তাঁর শেষকৃত্য করা হবে।