ফিফা বিশ্বকাপে এক আসরের গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ ১৩৭ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ার পরই দেখা মিলল গোলখরার। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলের মাধ্যমে রেকর্ডটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বোস্টনে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচটি শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। ফলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা দুই দলই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।
বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের জন্য ছিল হতাশার এক সন্ধ্যা। পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি থ্রি লায়নসরা। অন্যদিকে ঘানা দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট আদায় করে নেয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের শেষদিকে ইংল্যান্ড আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে শেষ দিকে, যখন বুকায়ো সাকার শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক আসারে। এরপর ও’রেইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরতি বলে হ্যারি কেইনের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে মার্ক গেহির একটি হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ঘানার ডিফেন্ডাররা।
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের দখল ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে সেই আধিপত্যকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি, যা চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ঘটল।
ঘানা পুরো ম্যাচে রক্ষণাত্মক কৌশল অনুসরণ করে। চারজনের দুটি প্রতিরক্ষা লাইনের মাঝখানে থমাস পার্টিকে রেখে তারা ইংল্যান্ডের আক্রমণ সামলানোর চেষ্টা করে এবং তাতে সফলও হয়। ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এছাড়া ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি রাইস। হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে উত্তেজনাও ছড়ায় মাঠে। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা জুড বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সতীর্থরা এসে তাদের আলাদা করেন।
ড্র হলেও ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো দলটি এখন দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ওপরে রয়েছে। শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠবে। অন্যদিকে পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পাওয়া ঘানাও সমান চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ম্যাচ শেষে বেশ কয়েকটি অবাঞ্ছিত রেকর্ডের সঙ্গী হয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলটি এখন পর্যন্ত ২৩টি ম্যাচ ড্র করেছে, যার মধ্যে ১৩টিই গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে উভয় ক্ষেত্রেই এটি সর্বোচ্চ।
এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখলের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ পজেশন রেকর্ড। একই সঙ্গে ফুটবলে বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর গোল করতে ব্যর্থ হওয়া কোনো দলের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ডও এটি।
এছাড়া ম্যাচটিতে মার্ক গেহি ১২৬টি সফল পাস সম্পন্ন করেন, যা বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সফল পাসের নতুন রেকর্ড। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ডিফেন্ডারের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ফ্রি-কিক আদায়ের নজির হিসেবেও রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিয়েছে।
গোলশূন্য ড্র হলেও ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে একাধিক রেকর্ড ও অপূর্ণতার কারণে।