বিদ্যমান আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, আসছে আলাদা ট্রাইব্যুনাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
3
বিদ্যমান আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, আসছে আলাদা ট্রাইব্যুনাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আলাদা ট্রাইব্যুনাল তৈরির করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসাসেবা সহজ ও উন্নত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে বিধিমালা ও গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি সংসদ অধিবেশনেই বিদ্যমান মাদকদ্রব্য আইন সংশোধন করা হবে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো (অবৈধ) মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৩টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here