গাজীপুরে ফের পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ১২

0
1
গাজীপুরে ফের পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ১২

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ফের পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিহত লিজা আক্তারের মিলাদ মাহফিলে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য, লিজা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শনিবার সকালে প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। একই সময় নিহত শ্রমিকের আত্মার মাগফিরাত কামনায় একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শ্রমিকদের দাবি, এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) একই এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদে শত শত শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকরা মাওনা-বরমী ও মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লেও কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল বলে দাবি তাদের।

নিহত লিজা আক্তার (৩৬) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী।

সর্বশেষ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা লিজা আক্তারের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেপিরবাড়ি ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here