কক্সবাজারে পুত্রবধূকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা

0
1
কক্সবাজারে পুত্রবধূকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুত্রবধূকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আবু তাহের (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক বখাটে ও তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা প্রথমে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে তাকে ঘর থেকে বের করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন মাতবরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের ওই এলাকার মৃত আবদু ছত্তরের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে একই এলাকার পুরাতন বহদ্দারপাড়ার নুরুল হোসেনের ছেলে শিফাত (২৭) এবং শাহ আলমের ছেলে বাহাদুরসহ কয়েকজন নিহতের বাড়ির সামনে এসে ঢিল ছোড়ে এবং বিভিন্নভাবে ডাকাডাকি করে। এ সময় প্রবাসী ছেলে কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে আবু তাহের বাইরে বের হয়ে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পুত্রবধূ ছকিনা বেগম বলেন, আমার জা তৈয়বা বেগমের ঘরের চালে ঢিল ছোড়া হলে তিনি চিৎকার করেন। শ্বশুর আবু তাহের প্রতিবাদ করতে গেলে শিফাত, বাহাদুরসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়ে ও মারধর করে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

নিহতের বড় ছেলে নবাব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শিফাত দীর্ঘদিন ধরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে আগে গ্রাম্য সালিশও হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছিল। এরপরও সে বিরত হয়নি। পরিকল্পিতভাবেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, প্রবাসী ছেলে কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে শিফাত উত্ত্যক্ত করতেন। মাঝেমধ্যে রাতে বাড়িতে এসে ঢিল ছোড়া, অশ্লীল মন্তব্য করা এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। কয়েক মাস আগে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ব-বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত শিফাত ও বাহাদুর পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here