ইরানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর ইরানের সিরিক, বান্দার-ই-লেঙ্গেহ ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালানো হয়।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজানো হয়। কুয়েতও জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকায়’ সক্রিয় করা হয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে তেহরানভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্বাস আসলানি বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছে ইরান। তার ভাষায়, ‘ইরান মনে করে হরমুজ প্রণালি নতুন করে আগ্রাসন ঠেকানোর একটি কার্যকর হাতিয়ার। জোর করে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’
অন্যদিকে ইসরায়েলও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। লেবানন সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছানোর একদিন পরই এই হামলা চালানো হলো।
এদিকে বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে ওমান। দেশটি বাহরাইনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের নিন্দা জানিয়েছে।