বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচের পর আবারও পেনাল্টি শুটআউটের চরম নাটকীয়তা দেখল ফুটবলবিশ্ব। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে সমানে সমান টক্কর দেওয়া মরক্কো এবার মেক্সিকোর মনতেরেই স্টেডিয়ামে ডাচদের স্তব্ধ করে দিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর, টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
ম্যাচে বল দখল (৭০%) থেকে শুরু করে আক্রমণ—সবখানেই একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল মরক্কোর। তবে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ডাচ গোলরক্ষক ভারব্রুগেনের অসাধারণ কিছু সেভ এবং দু-দুটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় বারবার গোলবঞ্চিত হতে হয় আফ্রিকান পরাশক্তিদের।
খেলার ১৮ মিনিটে এল আইনাউইয়ের হেড ও ২০ মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর ৫২ মিনিটে হাকিমির আরেকটি চিলিং শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে হতাশায় ডোবে মরক্কো।
খেলার স্রোতের বিপরীতে ম্যাচের ৭২ মিনিটে লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। ডি-বক্সের বাইরে সামারভিল পড়ে যাওয়ার আগে বল বাড়িয়ে দেন কোডি গাকপোর দিকে। মরক্কোর ডিফেন্ডারদের ভুল মার্কিংয়ের সুযোগে লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড দারুণ শটে পরাস্ত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে (১-০)। তবে মরক্কো হার মানেনি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে (৯১ মিনিটে) তালবির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যান ডিফেন্ডার ইসা দিওপ (১-১)। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
অতিরিক্ত সময়েও সোফিয়ান রাহিমির একটি নিশ্চিত গোল ডাচ কিপারের পায়ে লেগে প্রতিহত হলে ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। শুটআউটে মরক্কোর পক্ষে সোফিয়ান রাহিমি, ইসা দিওপ ও ইসমাইল সাইবারী গোল করলেও এল আয়নাউয়ি ও আশরাফ হাকিমি ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের কুপমেইনার্স ও ওয়েগহর্স্ট গোল করতে পারলেও জাস্টিন ক্লাইভার্ট পোস্টে মারেন, কুইন্টেন টিম্বার্স মারেন পোস্টের বাইরে এবং সর্বশেষ সামারভিলের শট মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনো দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিলে ৩-২ ব্যবধানে মহাকাব্যিক জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর।