সাঈদীর সাক্ষীকে অপহরণ: সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ 

0
3
সাঈদীর সাক্ষীকে অপহরণ: সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ঢাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে শুনানির সময় আসামিকে আদালতে তোলা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুখরঞ্জন বালী তার আইনজীবীসহ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে পৌঁছালে সাদা পোশাকধারীরা তাকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে একটি ডবল কেবিন গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে চোখ বেঁধে দুই মাস ধরে নির্যাতন করে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠানো হয় এবং দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ বছর আটক থাকার পর সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে জামিনে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ডিএমপি ডিবির দুটি ডবল কেবিন গাড়িতে করে ফজলুর রহমান ও তার টিম ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে সুখরঞ্জন বালীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল যে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেওয়া এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে গুম ও নির্যাতন করা হয়। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকায় ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।

এদিকে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রিক্যুইজিশনের ভিত্তিতেই ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডিবিতে দায়িত্বে থাকাকালে ফজলুর রহমান ও তার টিম সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনাল তাদের জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here