পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারত জেলায় একটি পুলিশ পোস্টে ভোরের আগে সশস্ত্র হামলার জেরে চালানো যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক প্রশাসন।
মঙ্গলবার প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস, বেলুচিস্তান পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি), স্পেশাল অপারেশনস উইং এবং অ্যান্টি-টেররিজম ফোর্স (এটিএফ) যৌথভাবে একটি ক্লিয়ারেন্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়।
তিনি জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)সহ মোট ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছেন।
হামলার সময় অপহৃত হওয়া আট পুলিশ সদস্য নিরাপদে কাচ পুলিশ স্টেশনে ফিরে এসেছেন। এছাড়া আরও একজন কনস্টেবলকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান শাহিদ রিন্দ।
তিনি বলেন, “বেলুচিস্তানের শান্তি নষ্টের চেষ্টা করে জঙ্গিরা বড় মূল্য দিয়েছে। এ প্রদেশে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।” তিনি আরও জানান, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো যে কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, এরা বেলুচিস্তানের উন্নয়ন, শান্তি ও জনগণের সমৃদ্ধির শত্রু।”
তিনি আরও বলেন, “বেলুচিস্তানের শান্তি বিনষ্ট করতে কাউকে অনুমতি দেওয়া হবে না। জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ হামলার দায় এখনো কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়েছে। পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ভারত বেলুচিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়। তবে নয়াদিল্লি এ অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।