টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, বিপৎসীমা ছোঁয়ার শঙ্কা

0
2
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, বিপৎসীমা ছোঁয়ার শঙ্কা

ফেনীতে টানা বর্ষণ ও ভারতের উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে দ্রুতই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৬৪ মিটার। এটি বিপৎসীমার ০ দশমিক ৯১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীটির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার।

এদিকে, টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাঁধ ভাঙন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান স্থানীয়রা।

ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। নদীর পানি বাড়তে থাকলে আর স্বাভাবিক থাকা যায় না। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কী হবে, সেই শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।”

একই উপজেলার জগতপুর এলাকার বাসিন্দা আলম সরওয়ার বলেন, “গত দুই বছরও বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এবারও পানি বাড়ার খবর শুনেই মানুষ আতঙ্কিত। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হলে মানুষের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে।”

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার পানির বৃদ্ধির পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। গত কয়েক দিন ধরে কিছু সময় পানি বাড়লেও পরে আবার কমে গেছে। সর্বশেষ আজ সকাল থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ৩৫ মিটার, দুপুর ২টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৩৩ মিটারে এবং সর্বশেষ সন্ধ্যা ৬টায় পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬৪ মিটার। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে নতুন করে বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত হতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here