দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হি ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। দেশের সামরিক আইন সংকট এবং ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দম্পতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত কেলেঙ্কারির তদন্ত আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ তদন্ত দল শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম কিওন হি এবং তার স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল, দুজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইউন অপসারিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, সামরিক আইন চাপানোর ব্যর্থ চেষ্টা এবং অন্যান্য অভিযোগে বিচার চলছে। বিশেষ তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কিমের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে স্টক মার্কেট জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ তদন্ত দল জানিয়েছে, কিম স্টক মার্কেট জালিয়াতির মাধ্যমে ৮১০ মিলিয়ন ওয়ন (প্রায় ৫.৮৩ লাখ মার্কিন ডলার) অবৈধভাবে আয় করেছিলেন। এছাড়া তিনি ইউনিফিকেশন চার্চের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে ৮০ মিলিয়ন ওয়ন মূল্যের ঘুষ নিয়েছেন। ঘুষের মধ্যে দুটি শ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ এবং একটি হীরার হার ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিনিময়ে তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রভাব খাটিয়েছেন।
কিম কিওন হি এক সময় দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রভাবশালী অবস্থান স্বামীর রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের সামরিক আইন ঘোষণার পর তার রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত ভেঙে পড়ে। ইউনিফিকেশন চার্চ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে সাবেক কর্মকর্তার অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা অনুশোচনা প্রকাশ করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সহায়তা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। হান আগে পাঁচজন প্রেসিডেন্টের অধীনে উচ্চ পদে কাজ করেছেন এবং ইউন অপসারিত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
কিম কিওন হি নিজে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি অন্ধকার রাতে জ্যোৎস্না সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়, তেমনি আমিও সত্য ও হৃদয়ের আলোয় এই সময় পার করব।” তবে তার আইনজীবীরা ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স


