কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আফগানিস্তান ও পাকিস্তান

0
45

সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষের পর অবশেষে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে কাতার, যার সঙ্গে সহ-মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল তুরস্ক।

রোববার (১৯ অক্টোবর) ভোরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার (১৮ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এক বৈঠকে অংশ নেয়। এই আলোচনার ফলস্বরূপ উভয় দেশ এই সমঝোতায় পৌঁছায়।

আলোচনায় আফগানিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। কাতার আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার লক্ষ্যে দুই দেশ ভবিষ্যতে ফলোআপ বৈঠক করবে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গত দুই সপ্তাহে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের সঙ্গে থাকা ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের মদদ দিচ্ছে কাবুল। এই অভিযোগের জেরে দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ নিতে আফগান সেনারা সীমান্তে পাক সেনাদের ওপর হামলা চালালে এটি বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এর আগে গত সপ্তাহে দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান আবারও বিমান হামলা চালায়। যদিও এর আগে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, তাদের যুদ্ধবিরতির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

গত শুক্রবার আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সন্ত্রাসীরা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে সাত সেনাকে হত্যা করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। যদিও আফগান সরকার শুরু থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।