এপেক সম্মেলনে ট্রাম্পকে স্বর্ণের মুকুট উপহার দিল দক্ষিণ কোরিয়া

0
66

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে এক অনন্য সম্মান পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ট্রাম্পকে প্রাচীন সিলা রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মুকুটের প্রতিরূপ একটি স্বর্ণের মুকুট উপহার দেন। এই প্রতীকী উপহারটি দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অচলাবস্থায় থাকা ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কিম ইয়ং-বম সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া শুল্ক আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের নগদ বিনিয়োগ এবং ১৫০ বিলিয়ন ডলারের জাহাজ নির্মাণ সহযোগিতা।

আলোচনা সম্পর্কে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা চুক্তিতে পৌঁছেছি, প্রায় চূড়ান্ত করেছি।” তবে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার ফলে দুই দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাধা দূর করার পথ খুলেছে।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়ছে। নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সেই শুল্ক হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • চীন সফর: ট্রাম্পের এ সফর ঘিরে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে ট্রাম্প-শির প্রথম মুখোমুখি বৈঠক, যা দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গিয়ংজুতে অনুষ্ঠিত হবে।

  • জাপান সফর: টোকিও থেকে আগমনের পর ট্রাম্প করপোরেট নেতাদের এক সভায় বক্তব্য দেন। জাপান সফরে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বিরল খনিজ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

  • সম্মাননা: দক্ষিণ কোরিয়ায় মুকুটের পাশাপাশি তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব দেওয়া হয়।

বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই দেশের নেতারা আলোচনা করবেন। সিউল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে শিথিলতা চায়, যাতে তাদের শিল্পকারখানায় কর্মী নিয়োগ সহজ হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরে হুন্ডাই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩০০-র বেশি দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে আটক করায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে জানান, চীনের সঙ্গে ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর একটি প্রাথমিক কাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে এবং তিনি আশাবাদী, এই সফরে ‘দুই দেশের জন্যই দারুণ এক চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হবে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি কিম জং-উনকে ভালোভাবে চিনি… তবে এবার সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি।”