পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সোমবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২০ জন তালেবান বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংক্রান্ত সংঘর্ষ এবং সীমান্তবর্তী জঙ্গি কার্যকলাপের কারণে এই ঘটনা উভয় দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত জঙ্গিদের ‘খোয়ারিজ’ বলা হয়েছে, যা পাকিস্তানের নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য ব্যবহৃত শব্দ। এই অভিযান রোববারের পর থেকে বিভিন্ন অবস্থানে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আট জন এবং দারা আদম খেল জেলায় আরও ১২ জন নিহত হয়। এই অভিযান মূলত টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর গতিবিধি এবং সীমান্তে তাদের কার্যক্রম রোধ করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
এদিকে, ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তৃতীয় দফার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের জন্য দোষারোপ করেছে। কাতার ও তুরস্কের সহায়তায় গত মাসে মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই আলোচনা শুরু হয়েছিল, যেখানে সেনা এবং বেসামরিক নাগরিকদেরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, কাবুল তার ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি পরিস্থিতির অচলাবস্থার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত জঙ্গিরা আফগান তালেবান থেকে পৃথক হলেও মিত্র হিসেবে কাজ করে এবং ২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় আসার পর তাদের কার্যক্রম বেড়েছে। পাকিস্তান দাবি করছে, টিটিপি প্রায়ই পাকিস্তানে হামলার দায় স্বীকার করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গি হামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববারের এই অভিযানের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে মূল উদ্বেগ সমাধান হওয়া জরুরি। পাকিস্তান জানিয়েছে, টিটিপি সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে কাবুল ব্যর্থ হলে তাদের পাকিস্তানে হস্তান্তরের দাবি জানাবে।