রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা ও পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিডি (VGD) প্রকল্পের বরাদ্দকৃত চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় ইউনিয়ন পরিষদ গেইট সংলগ্ন পলাশ মুদির দোকানের সামনে সরকারি চাল বিক্রির সময় ইউপি সদস্য কাইয়ম হোসেন মিরাজ বিক্রেতাকে হাতে–নাতে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতি সুবিধাভোগীকে সরকার নির্ধারিত ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৬–২৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছিল। বাকি থাকা চাল গোপনে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সদস্য মিরাজ সাংবাদিক আইয়ুব চৌধুরীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর ইউপি সদস্য ও সদস্যারা জরুরি মিটিং করেন। সদস্য মিরাজ এবং ১নং ওয়ার্ডের সদস্য এমদাদুল হক মিলন জানান, পুরো ঘটনাটি লিখিত আকারে আগামী রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-কে জমা দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি চাল আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগের যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এর আগে পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা হয়নি বলে দাবি তাদের।
জানা গেছে, অভিযুক্ত চাল বিক্রি করানোর সাথে জড়িত চেয়ারম্যান আদোমং মারমা ও ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য থুইচিংমং মারমা (কুলিক্যা)। চাল বহনের দায়িত্বে ছিলেন টমটমচালক চিপাইউ মারমা।
এ বিষয়ে ইউএনও ইমরান খান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। পরিষদের সদস্যরা বসে কোথায় ব্যর্থতা হয়েছে তা নির্ধারণ করে ২০ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে একটি সামারি দিতে বলা হয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, ত্রাণ ও সরকারি বরাদ্দের বিতরণ ব্যবস্থায় সঠিকতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।