আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

0
56

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্র্যাক ফেরত আসা যাত্রীদের পরিবহন ও জরুরি সহায়তা প্রদান করে।

ফেরত আসা ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জন নোয়াখালীর। এছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের দু’জন করে এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর একজন করে রয়েছেন।

চলতি বছরে এর আগে মার্কিন প্রশাসনের মাধ্যমে ১৮৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪ জন বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তারা মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দু’জন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে এবং তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার পর আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, “একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফেরা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা তাদের পাঠিয়েছে এবং অনুমোদনে জড়িত ছিল তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর আগে সরকারের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এদিন কারও হাতে হাতকড়া বা শেকল পরানো হয়নি, যদিও পূর্ববর্তী সময়ে এমনটি দেখা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশিসহ বহু দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন, এবং ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছে।

মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করলে আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে আইসিই তাদের প্রত্যাবাসন কার্যকর করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।