হাদি হত্যাকাণ্ড: প্রধান আসামি ও তার সহযোগী ভারতে পালিয়েছে: ডিএমপি

0
43

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্র। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ এবং তার এক সহযোগী ইতিমধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়মনসিংহের দুর্গম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে স্থানীয় দালাল চক্রের সহায়তায় তারা দেশ ছাড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম জানান, এই হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত অপরাধ। এখন পর্যন্ত এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে হত্যার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে মামলার পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএমপির তদন্ত অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুসারীদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার এক সহযোগী চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। শুরুতে মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।