আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জাল ভোট প্রদান এবং অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থী, তাদের এজেন্ট ও সমর্থকদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ক্যানভাস করা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, অবৈধ হস্তক্ষেপ, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার এবং ভোটের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। এসব অপরাধ দমনে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করতে হবে। ওই বৈঠকে প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী ও পোলিং এজেন্টদের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী আইন-বিধি মেনে চলা, ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যয়ের বিবরণী সময়মতো দাখিল এবং নির্বাচনী সন্ত্রাস, ভীতি প্রদর্শন ও অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার রোধে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়, একজন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার যেকোনো যোগ্য ভোটারকে তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। এ জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে এজেন্টের নাম, পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা জানাতে হবে। প্রার্থী চাইলে যেকোনো সময় এজেন্টের নিয়োগ বাতিল করে নতুন এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। কোনো এজেন্ট নিয়োগ না করলে প্রার্থী নিজেই নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন।
এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ২২(১) অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট ভোটগ্রহণের আগে প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। একটি ভোটকক্ষে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন পোলিং এজেন্ট রাখতে পারবেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।