জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুমোদন: আইন উপদেষ্টা

0
26

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী আজ ক্যাবিনেটে অধ্যাদেশটি অনুমোদিত হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট যেকোনো ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো মামলা হয়ে থাকলে সরকার তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে নতুন মামলা করা যাবে না এবং ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হবে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে যদি কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাহলে সে দায়মুক্তি পাবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিশোধস্পৃহা বা লোভের বশে সংঘটিত অপরাধকে আড়াল করার জন্য এই আইন করা হয়নি; আইনটি প্রযোজ্য হবে কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

তিনি আরও বলেন, কোন ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ার অংশ এবং কোনটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত—তা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত স্বার্থে হত্যার শিকার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সম্পর্ক নেই, তারা মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশন যদি ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়টি দেখতে পায়, তাহলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দেবে এবং আদালতে সেই রিপোর্ট পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।