জামায়াতের জরুরি বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হলো

0
45

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণা কৌশল, ইশতেহার এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের বিরতির পর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, এই অধিবেশন দিনব্যাপী চলবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়টি অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।

জুবায়ের বলেন, বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। পাশাপাশি ২১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী সফর শুরু করবেন এবং পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি এ বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, দলের বিভিন্ন কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনুমোদনও এই বৈঠকে দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের পলিসি পেপার উপস্থাপন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯টি মৌলিক বিষয়ের ওপর পলিসি পেপার প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন টিম ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যারা তাদের প্রস্তুত করা নথি উপস্থাপন করছেন। এসব চূড়ান্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ইশতেহার প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১ ফেব্রুয়ারি ইশতেহার উপস্থাপনের চিন্তা থাকলেও কখন ও কোথায় তা ঘোষণা হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৈঠকের পর জানানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলামের পক্ষ থেকে আগেই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে; সেখানে মামলাটির নিন্দা জানিয়ে প্রত্যাহারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি এই বৈঠকে আলোচনা না হলেও জামায়াতের ১০ দলের লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে আলোচনা করে শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রস্তাবনা দেবে এবং সেখান থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান জুবায়ের। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে এবং তাদের জন্য আসন ও চেয়ার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জোটে বর্তমানে ১১টি দল থাকলেও একটি দল সরে যাওয়ায় তা এখন ১০ দলে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকার ৪৭টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের স্টিয়ারিং কমিটি প্রস্তাব তৈরি করে শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করবে এবং এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তোলা ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াত ওই নীতিতেই অটল রয়েছে এবং জোটগতভাবে এক প্রার্থীকে সমর্থনের অবস্থানেই আছে।