নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে, নইলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড: ইসি

0
22
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে, নইলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড: ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীকে সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে বলে পরিপত্রে সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে (পরিপত্র-১৮) এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

ইসি জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত—উভয় ধরনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বা নির্বাচনের সময় কোনো ব্যয় করেননি, তাদেরও নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে ফরম-২২ অনুযায়ী নির্বাচনী এজেন্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে এফিডেভিটসহ ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই রিটার্ন ও এফিডেভিটের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। বিধি অনুসারে ফরম-২২ক, ২২খ বা ২২গ-এর নমুনায় হলফনামাও দাখিল করতে হবে।

ইসি বলেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করা বা আদেশ অমান্য করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

জনসাধারণের জন্য পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব ব্যয়ের রিটার্ন ও দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। ফি প্রদান সাপেক্ষে যে কেউ নথি পরিদর্শন বা অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি দলিল পরিদর্শনে ১০০ টাকা এবং অনুলিপি বা উদ্ধৃতাংশের জন্য প্রতি পৃষ্ঠা ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া কোনো প্রার্থী বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি লাগবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।