আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের রাতে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্মারকও নিজেদের করে নিলেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। পোস্টের নিচে টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রায় নিখুঁত ও বিশ্বস্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপারের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জিতে নিয়েছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ২৯ বছর বয়সী এই তারকা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্সেনালের ডেভিড রায়া কিংবা বার্সেলোনার জোয়ান গার্সিয়াদের মতো বড় নামের ক্লাসিক পারফরম্যান্সের কারণে স্পেনের এক নম্বর গোলকিপার কে হবেন—তা নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। তবে সব গুঞ্জন একপাশে সরিয়ে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরম আস্থা ছিল উনাই সিমনের ওপরই। আর পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাসের শতভাগ প্রতিদান দিয়েছেন এই ‘সুইপার কিপার’।
পরিসংখ্যান বলছে, ‘লা রোজা’দের হয়ে আসরের ৮টি ম্যাচের প্রতিটিতেই শুরু থেকে স্প্যানিশ পোস্ট সামলেছেন সিমন। আর এই দীর্ঘ যাত্রায় পুরো টুর্নামেন্টে তিনি গোল হজম করেছেন মাত্র একটি! গ্রুপ পর্বে স্পেনের জাল অক্ষত রাখার পর নকআউট পর্বেও দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে পর্তুগালের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে বাঁচান সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেই তাঁকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
আধুনিক ফুটবলের খাঁটি ‘সুইপার কিপার’ হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন সিমন। শুধু গোললাইনে দাঁড়িয়ে না থেকে ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে ডিফেন্স সামলানো এবং আক্রমণ তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন। তবে ফাইনালের মেগা মঞ্চে তুলনামূলক বেশ স্বস্তিদায়ক সময় কাটিয়েছেন সিমন। বিবর্ণ ও ছন্নছাড়া আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডরা তাঁর সামনে বড় কোনো কঠিন পরীক্ষা ফেলতেই পারেনি। যার ঝুলিতে ছিল ৭টি ক্লিন শিট ও পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল হজমের অনবদ্য রেকর্ড—সেই উনাই সিমনের হাতেই যে বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস উঠবে, তা নিয়ে হয়তো কারও কোনো সংশয় ছিল না।