দীর্ঘ এক মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় কেন্দ্রটি আবার ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।
গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬৯,৬০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে একটি জাহাজ মাতারবাড়ী বন্দরে পৌঁছায়। একই দিনে কয়লা খালাস শুরু হয়। রবিবার (১ ডিসেম্বর) আরও ৬৬,০০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আরেকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটি পুনরায় উৎপাদনে আসায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে, ফলে লোডশেডিং কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর কয়লার অভাবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জাপানের সুমিতমো করপোরেশনের কয়লা সরবরাহ চুক্তি আগস্টে শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় কয়লা সংকট তৈরি হয়। কয়লা আমদানির দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব জটিলতা কাটিয়ে নভেম্বর মাসে কয়লা সরবরাহ পুনরায় চালু হয়। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৫১,৮৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের জুলাই এবং দ্বিতীয় ইউনিট ডিসেম্বর মাসে চালু হয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে এটি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান জানান, কয়লার চাহিদা পূরণ হওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে কেন্দ্রটির দুই ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে। কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে। নিয়মিত কয়লা সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আর কোনো বাধা থাকবে না।


