দাম নিয়ে হতাশ নীলফামারীর আখ চাষিরা

0
1
দাম নিয়ে হতাশ নীলফামারীর আখ চাষিরা

নীলফামারীতে আখ চাষে ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং সরকারি প্রণোদনার অভাব প্রধান সমস্যা। উৎপাদন খরচের তুলনায় মুনাফা কম হওয়ায় এবং বাজারমূল্য ওঠানামা করায় কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে চলতি বছরে জেলায় কৃষকেরা ২০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছে যা গত বছরের তুলনায় অনেকবেশি। কিন্তু আবহাওয়া তারতম্য থাকায় নানান রোগবালাই লেগে আছে।নানা প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করেও আখের রোগবালাই দূর করতে পারতেছে না।

সরজমিনে সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নে একাধিক আখ চাষিদের সাথে কথা বললে তারা জানান যে, চলতি মৌসুমে আকাশের বৃষ্টির কারণে পচনশীল রোগ বেশি হচ্ছে যা আখ চাষিদের মাঝে হতাশাজনক। এছাড়া সার, কীটনাশক ও মজুরি দাম বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় অধিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে তাদের মাঝে প্রণোদনা দিলে খানিকটা স্বস্তিতে ফিরে আসবে সেই সাথে আগ্রহ বাড়বে আখ চাষে। বলছে চাষিরা।

আখ চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন বিগত কয়েকবছর যাবত চাষাবাদ করে আসতেছি এবং এ চাষে বেশ লাভজনকও হয়েছি। প্রতি বিঘা আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। রোগবালাই ও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতিবিঘা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রি হয়। তিনি আরও বলেন জেলা জুড়ে আমাদের এদিকে আখের প্রচুর পরিমাণ চাহিদা।

গোড়গ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা তুষার বলেন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা আখের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও সরকারি সহায়তা প্রদান না করা হলে আখের চাষাবাদে অনাগ্রহ হবে তারা।

এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক আবু তালেব বলেন, সরকারি চিনিকলগুলোতে আখের দাম সহনশীল ও কৃষকদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করার আহ্বান জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক হোমায়রা বলেন আখ চাষিদের যেকোনো সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন নীলফামারী অঞ্চলে (বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলায়) মাটিতে সকল প্রকার আখ চাষে উপযোগী। এছাড়া এসব আখ রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও ব্যাপক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here