এক মাস পর বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু

0
1
এক মাস পর বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু

এক মাস বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদুৎ কেন্দ্রের সর্ববৃহৎ ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯ টা ৩২ মিনিটে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়। বর্তমানে ওই ইউনিটটি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে।

এ বিষয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমানে তিন নম্বর ইউনিটটি থেকে ২৫০ এবং এক নম্বর ইউনিটটি থেকে ৫০ মেগাওয়াট মোট ৩০০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্ববৃহত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাত মাস সংস্কারের পর গত ২০ মে বিকেলে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হলেও উৎপাদন শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ইউনিটটির যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। ফলে ২৫ মে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ১২৫ মেগাওয়াট প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল। যা থেকে প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। দির্ঘ এক মাসব্যাপী সংস্কার কাজ শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯ টা ৩২ মিনিটে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়। তৃতীয় ইউনিটের সংস্কার কাজে ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ। বর্তমানে ৩ নম্বর ইউনিটটি থেকে ২৫০ এবং ১ নম্বর ইউনিটটি থেকে ৫০ মেগাওয়াটসহ মোট ৩০০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট নিয়ে শুরু হলেও, ২০১৭ সালে আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট ৩নং ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। তবে নানা জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনো একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালু করে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।

সূত্র মতে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহের দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত। তবে এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার (২৩জুন) রাত ৯টা ৩২ মিনিট থেকে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিটটি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত হচ্ছে। একই সাথে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটটি চালু রয়েছে যা থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। বর্তমানে সবমিলিয়ে গড়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। এতে করে লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে।

এর আগে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ায় ২৫ মে থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here