খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান: তাঁর আসনে প্রার্থী দেবে না গণঅধিকার পরিষদ

0
61

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর আসনে গণঅধিকার পরিষদ কোনো প্রার্থী দেবে না বলে ঘোষণা করেছেন দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর।

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ৫টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে গণঅধিকার পরিষদের আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান: নুর বলেন, জামায়াতের আমির, ইসলামী আন্দোলনের আমিরসহ যে সমস্ত জাতীয় নেতৃবৃন্দ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যেন এসব জাতীয় নেতৃবৃন্দের এলাকায় প্রার্থী না দিয়ে একটি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করে।

তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদসহ কোনো দলই সভা-সমাবেশ করতে পারেনি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশ করছে এবং কেউ কোনো বাধা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, জুলাই সনদ গণভোটে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে, যেখানে উচ্চকক্ষে ১০০ জন ও নিম্নকক্ষে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৩৫০ জন সদস্য থাকবেন। উচ্চকক্ষের সদস্য প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হবেন। জোট করলেও ভোট করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে।

কৃষক ও অর্থনীতির বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, সরকার কৃষকের ফসল উৎপাদনের সময় এলসি ওপেন করায় কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, যা কৃষিকাজে তাঁদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের জন্য ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়। ভারতের কারণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, এতে উত্তরের মানুষ প্রতিবছর বন্যা ও খরার শিকার হচ্ছে। তিনি আগামীতে পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী করার এবং নতুন কৃষি নীতি প্রণয়নের দাবি জানান। চিনিকলসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কলকারখানা পুনরায় চালু করার দাবিও জানান নুরুল হক নুর।

তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৫০ বছরের পুরোনো রাজনীতি, দুর্নীতি আপনারা দেখেছেন। যারাই ক্ষমতায় গেছে সবাই একই পথে হেটেছে। তাই তরুণদের ভোট দিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। তরুণরাই পারবে আগামীর বাংলাদেশকে বদলে দিতে।” তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এবারের রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

এর আগে, গত ৪ নভেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ঘোষণা করে যে তারা বেগম খালেদা জিয়ার আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপির কাছে সহযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামী আমির, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি চান, এই নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদে প্রবেশ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিসরে আরও শক্তিশালী করুন।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকা অনুযায়ী, ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে লড়বেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম ফাহিম, হানিফ কান রাজিব, নির্বাহী সদস্য মো. কামাল প্রমুখ।