দশম গ্রেডের দাবিতে অনড় প্রাথমিক শিক্ষকরা: আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

0
41

দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আজ রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির কারণে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টিরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আমরা আজ রোববার থেকে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের পূর্বঘোষিত ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় বহু শিক্ষক আহত হন। শামসুদ্দিন মাসুদ দাবি করেন, পুলিশের রাবার বুলেটে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর শিক্ষকরা শাহবাগ এলাকা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সহকারী শিক্ষকদের প্রধান তিন দফা দাবিগুলো হলো: ১. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। ২. ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান। ৩. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। শিক্ষকদের এই কর্মবিরতির ফলে আজ (৯ নভেম্বর) থেকেই এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে দাবি বাস্তবায়নের সময়সীমা দিয়েছে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা আরও জানিয়েছে, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন শিক্ষকরা।

দাবির প্রেক্ষাপট: এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে দশম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এই পদক্ষেপে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।