১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে: প্রধান উপদেষ্টা

0
58

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদী। ড. ইউনূস বলেন, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যা ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাসের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায় এবং কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসিয়ান সদস্যপদের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। ভবিষ্যৎ সরকার এই উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।