মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় নিহত জসিম উদ্দিনের ঘটনাটি মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৯ বীরের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জ সদরের চর-আব্দুল্লাপুর গ্রামে ডা. নাছির ও নিহত জসিম উদ্দিন—এই দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্কের অবনতি ও বিরোধ ছিল। তিনি বলেন, ডা. নাছিরের মেয়ের সঙ্গে জসিমের ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল; পরে ওই মেয়ে পালিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতা তৈরি হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরোনো এই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং শুক্রবার বিকেল আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডা. নাছির পক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে জসিমকে হামলা করে বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় আহত জসিমকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে না নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে তিনি মারা যান। তিনি ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
এ সময় তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা কোথাও ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি মোল্লাকান্দির একটি কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান, ওই ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।