চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সারা দেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে। গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২৭টি জেলায় এই তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা থাকলেও গত বছরের মতো টানা দীর্ঘস্থায়ী গরমের আশঙ্কা এবার তুলনামূলকভাবে কম।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এছাড়া গতকাল রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং রাজধানী ঢাকায় ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ১৮টি জেলা এবং ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী—এই ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ এবং ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
টানা এই গরমের মধ্যে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই মধ্যে শরীয়তপুরসহ দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের মতে, রোববার থেকে দেশের কিছু অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপপ্রবাহকে সাময়িকভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু বা মাঝারি এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা এর কাছাকাছি থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, খুলনা বিভাগ, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় গরমের দাপট বেশি থাকতে পারে।
২০২৪ সালে দেশে ৭৬ বছরের মধ্যে টানা ৩৫ থেকে ৩৬ দিনের দীর্ঘতম তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে এবার একাধিক কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কারণে টানা এত দীর্ঘ সময় গরম থাকার শঙ্কা কম। পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি থেকে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন তাপপ্রবাহের ধরন বদলে গিয়ে তা বর্ষাকাল পেরিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত সারা দেশে তিন থেকে চারটি তীব্র এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিরূপ আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা সুতির পোশাক পরিধান করা এবং বিনা প্রয়োজনে বাইরে বা সরাসরি রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।