যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য গোলাবারুদ সংরক্ষণ করতে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করছে।
ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও বৃহস্পতিবার সিনেটের এক অধিবেশনে আইনপ্রণেতাদের এই তথ্য জানান। এক সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের বৈঠকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল।
কাও সিনেটের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বরাদ্দ উপকমিটিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে “এপিক ফিউরি” অভিযানের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ রয়েছে — এবং আমাদের কাছে সেগুলোর যথেষ্ট মজুত আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা সবকিছু নিশ্চিত করছি, এরপর প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বৈদেশিক সামরিক বিক্রি আবারও চালু থাকবে।’
কাও বলেন, এই বিক্রি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে যুদ্ধ স্থগিত রয়েছে, তবে এখনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জানুয়ারিতে তাইওয়ানের জন্য এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল, তবে বিক্রি কার্যকর করতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
এটি অনুমোদিত হলে, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অনুমোদিত তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড অস্ত্র প্যাকেজকেও ছাড়িয়ে যাবে।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ান অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম এফটিভি নিউজ জানিয়েছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, এই স্থগিতাদেশ ‘তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ ও সংশয় আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ানের সরকারের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চাওয়া কঠিন করে তুলবে।’
ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে আলোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি এই প্যাকেজ অনুমোদন ‘করতেও পারেন, নাও করতে পারেন।’
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্যাকেজকে তিনি ‘আলোচনার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন — যদিও বেইজিংয়ের সাথে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা না করার কয়েক দশকের পুরোনো একটি নীতি রয়েছে।
চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং তাইপের প্রতি ওয়াশিংটনের চলমান কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সমর্থনের বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না, তবে ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়াশিংটন তাইপের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার অল্প সময় পর এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
ট্রাম্প তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান অবস্থানকে আরও বিভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই সপ্তাহের শুরুতে বলেন, অস্ত্র চুক্তি নিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তের সাথে কথা বলার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন।
এমন কোনো পদক্ষেপ চার দশকের কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে দেবে, যেখানে তাইওয়ানের নেতার সাথে সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে চলা হয়েছে। আর এতে বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সাথে ফোনে কথা বলেন, তবে সেই আলোচনা হয়েছিল তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই।