ইরান চুক্তি নিয়ে ‘পরাজিতদের’ কথা না শোনার নির্দেশ ট্রাম্পের

0
4
ইরান চুক্তি নিয়ে ‘পরাজিতদের’ কথা না শোনার নির্দেশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে এখনও অসমাপ্ত শান্তি চুক্তির সমালোচকদের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, তেহরানের সাথে আলোচনা “সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে” এগোচ্ছে। তবে তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য “তাড়াহুড়ো না করতে” নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের অধীনে সম্পাদিত কোনো চুক্তিই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যুগের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুরূপ হবে না। তিনি তাঁর প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তিটি একতরফাভাবে বাতিল করেছিলেন এবং একে “এ যাবতকালের অন্যতম নিকৃষ্ট চুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রবিবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “আমাদের চুক্তিটি ঠিক এর বিপরীত, কিন্তু কেউ তা দেখেনি বা জানে না সেটা কী। এমনকি এখনো এর আলোচনাও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সুতরাং, সেইসব পরাজিতদের কথা শুনবেন না, যারা এমন কিছু নিয়ে সমালোচনা করে যা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।”

সমালোচনার মুখে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির কথিত শর্তাবলী “ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্ন” হবে। সিনেটর টেড ক্রুজ একে “ভয়াবহ ভুল” এবং সিনেটর রজার উইকার বলেছেন, এটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অর্জনগুলোকে “ব্যর্থ” করে দিতে পারে।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তিটি একটি ৬০-দিনের সমঝোতা স্মারকের রূপ নেবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বর্ধিত করা যেতে পারে। খসড়ায় উল্লেখিত শর্তগুলো হলো: হরমুজ প্রণালী টোলমুক্তভাবে পুনরায় খোলা, প্রণালীতে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ করবে ইরান, ইরানের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সীমিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যাতে তেহরান তেল বিক্রি করতে পারে

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণের আলোচনার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত চুক্তিটি “৯৫% সম্পন্ন” ছিল, কিন্তু আলোচকরা তখনও এর “ভাষা” নিয়ে দর কষাকষি করছিলেন।

ট্রাম্প বলেছেন, “সময় আমাদের পক্ষে” এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, একটি চুক্তি সম্পাদিত, প্রত্যয়িত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ “পূর্ণ শক্তি ও কার্যকারিতা” বজায় রাখবে।

ইরানি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে তারা আগেই বলেছিলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য যুদ্ধ শেষ করা এবং এই মুহূর্তে পারমাণবিক বিবরণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। ফার্স সংবাদ সংস্থা ট্রাম্পের দাবি খণ্ডন করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী শুধু “খুলে দেওয়ার” বিষয় নয়।

ইরান বারবার হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণকে নিজের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছে। সর্বোচ্চ নেতার ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের এই জলপথকে “পারমাণবিক বোমার সমতুল্য সক্ষমতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে আরও বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধেরও অবসান ঘটবে। শনিবার ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই বিধান ও খসড়ার অন্যান্য অংশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here