হারারে টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই জিম্বাবুয়ের হাতে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের মাত্র ১৪০ রানের জবাবে ৪১০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা। ২৭০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে বাংলাদেশ করেছে ১ উইকেটে ৪০ রান। এখনও জিম্বাবুয়ের চেয়ে ২৩০ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
আজ দিনের শেষ ভাগে ব্যাটিংয়ে নামার পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল উইকেট ধরে রাখা। শুরুতে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। ওপেনিং জুটিতে আসে ২২ রান। তবে পঞ্চম ওভারে সেই জুটি ভেঙে যায়। রিচার্ড এনগারাভার বলে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৯ রান।
এরপর তিন নম্বরে নেমে মুমিনুল হক যোগ দেন জয়ের সঙ্গে। দিনের বাকি সময়টা কোনো বিপদ হতে দেননি দুই ব্যাটার। ধৈর্য ধরে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামলে দিন পার করেন তারা। মাহমুদুল হাসান জয় ২৬ বলে ২১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তার ইনিংসে রয়েছে দুটি চার। অন্যদিকে মুমিনুল অপরাজিত আছেন ১৭ বলে ৯ রান নিয়ে।
তবে দিনের বড় গল্পটা ছিল বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একমাত্র উজ্জ্বল নাম তাইজুল ইসলাম। ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর যখন জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
দ্বিতীয় দিন ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামানোর মূল কারিগর ছিলেন তাইজুল। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও স্বাগতিকরা পৌঁছে যায় ৪১০ রানে। ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ১৪০ রানের বিপরীতে ২৭০ রানের বড় লিড পায় তারা।
এই ৭ উইকেট নেওয়ার পথে তাইজুল খরচ করেন ১৩৮ রান। আর এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিশেষ এক জায়গায় পৌঁছে গেছেন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফাইফারের রেকর্ডে এখন সাকিব আল হাসানের পাশে বসেছেন তাইজুল। দুজনেরই টেস্টে ফাইফারের সংখ্যা ১৯টি।
তাইজুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের আগে অবশ্য জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বেশ দাপট দেখিয়েছেন। ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া খেলেছেন দুর্দান্ত ১৪০ রানের ইনিংস। তার ব্যাটেই তৈরি হয় বড় সংগ্রহের ভিত্তি। ওয়েসলে মাধেভেরে অপরাজিত থাকেন ৭৭ রানে। এছাড়া ক্রেইগ আরভিন ৬০, ব্রায়ান বেনেট ৫৯ এবং বেন কারান ৪২ রান করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয় দলটি। একমাত্র মুমিনুল হকই কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ রান। কিন্তু বাকি ব্যাটারদের কেউই জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের সামনে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারেননি।
এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইনিংস হার এড়ানো। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারলে ম্যাচ দ্রুতই জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে জয় ও মুমিনুলের ছোট্ট প্রতিরোধ কিছুটা আশা দেখাচ্ছে।
হারারে টেস্টে এখন প্রশ্ন একটাই-তাইজুলের একার লড়াইয়ের পর ব্যাটাররা কি এবার দায়িত্ব নিতে পারবেন? নাকি জিম্বাবুয়ের মাঠে আরও একটি হারের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ?