জকসু নির্বাচন ঘিরে জবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা: তারিখ নিয়ে মুখোমুখি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

0
47

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস এখন সরগরম। নির্বাচন কমিশন এখনো তপশিল ঘোষণা না করলেও আগামী ২৭ নভেম্বর সম্ভাব্য তারিখ ধার্য করা হয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে বড় দুই ছাত্রসংগঠন, ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির, মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনী তারিখ নিয়ে মতানৈক্য
সোমবার উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ছাত্রদল নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে, ছাত্রশিবির ভাষা শহিদ রফিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্বঘোষিত ২৭ নভেম্বরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তুলেছে।

ছাত্রদল: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ছাত্রদল। ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “অন্যান্য ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, জকসু নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করতে খুব তাড়াহুড়ো করছে। তাদের এ তাড়াহুড়োর মাধ্যমে কি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হয়।” তিনি প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবি জানান।

ছাত্রশিবির: প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি পক্ষকে মূল্যায়ন এবং ছাত্রশিবিরকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নিবার্চন কমিশন বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য জকসু নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করছে। প্রশাসন যে খসড়া তপশিল তৈরি করেছে তা নির্বাচন না করার একটি ষড়যন্ত্র।”
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে মেশিনের পরিবর্তে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা এবং নির্বাচনের ৯৬ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ওয়েলফেয়ার কার্যক্রম প্রদানের দাবি জানিয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে সরগরম ক্যাম্পাস ও ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে টানতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে:

ছাত্রদল: মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ছাত্রশিবির: মেধাবী সংবর্ধনাসহ নিয়মিত কর্মসূচির আয়োজন করছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া ইকরামুল হক সাজিদের নামে প্রথমবারের মতো ‘শহিদ সাজিদ মেমোরিয়াল স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৫’ আয়োজন করেছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট: বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া জানতে ‘শিক্ষার্থীদের দাবি সপ্তাহ’ আয়োজন করেছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে প্রার্থীরা ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন তারা।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামিহা তাসনিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমার জীবনের প্রথম ভোট দিব এবং সেটা জকসুতে। বিষয়টা অত্যন্ত আনন্দের।”

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে বেছে নিবেন এবং প্রার্থী যোগ্য হলে যে কোনো প্যানেলের হলেও ভোট দিতে আপত্তি নেই তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র অনুযায়ী, সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে, যখন ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন দুই সহোদর মো. আলমগীর শিকদার লোটন ও জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন। এরপর ৩৮ বছরে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদ আইন না থাকার অজুহাতে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। তবে সম্প্রতি জকসু নীতিমালা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ায় নির্বাচন আয়োজনে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই।